৩০ বছরেও সরকারি বরাদ্দ পায়নি ভাংবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৮-২২, ২:০০ PM /
৩০ বছরেও সরকারি বরাদ্দ পায়নি ভাংবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়

মোঃ মাহাবুব আলম, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের ভাংবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ৩০ বছর পার করলেও এখনো সরকারি বরাদ্দ পায়নি। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে জরাজীর্ণ টিনের ঘরে চলছে পাঠদান। প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ২০৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের পাঠদানে রয়েছেন ১০ জন শিক্ষক ও ৫ জন কর্মচারী। তবে পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় নিয়মিত পাঠদান চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষক-কর্মচারীদের।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিস কক্ষসহ মোট ছয়টি কক্ষ প্রয়োজন। নতুন ভবন না থাকায় পুরোনো টিনের ঘরেই ক্লাস নিতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ ভেসে যায়। এতে বন্ধ হয়ে যায় পাঠদান কার্যক্রম।

এ ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাসের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও কমন রুম রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। পর্যাপ্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার না থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বেশি। নেই কোনো সাধারণ বিশ্রামাগারও।

এত সংকটের মধ্যেও পড়াশোনায় পিছিয়ে নেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় এ বিদ্যালয় থেকে ৪৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২৫ জন কৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপযুক্ত পরিবেশ পেলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো ফলাফল করতে সক্ষম হবে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অভিভাবকরা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, আধুনিক ওয়াশরুম ব্যবস্থা এবং বিজ্ঞানাগার সচল করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহিদুর ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করে আসছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা বা অর্থ বরাদ্দ পায়নি।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে উপযুক্ত ভবনের পাশাপাশি ভালো টয়লেটেরও সংকট রয়েছে। জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের শৌচাগার ব্যবহার করতে হচ্ছে। সংকট এতটাই তীব্র যে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা নিতে পাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বেঞ্চ ধার করে এনে শিক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থা করতে হয়েছে।